Tuesday, December 26, 2017

আসুন পড়ি বাংলা কমিক্স

আজকাল দেখা যাচ্ছে কমিক্স পড়ার প্রবণতা এখনকার বাচ্চা বা কিশোরদের খুব কম। বাংলায় কমিক্স ১৯৬০ সালের আগে বেরোলেও মূলত বাংলায় কমিক্স জনপ্রিয়তা প্রায় ইন্দ্রজাল কমিক্স থেকে। তারপর ১৯৮০ সাল.. এটাই ছিল বাংলা কমিক্সের স্বর্ণযুগ। নারায়ণ দেবনাথের বাটুল,হাঁদা-ভোঁদা,নন্টে-ফন্টের পাশাপাশি ময়ূখ চৌধুরীর খাপে ঢাকা তরবার, বিশ্ব-সাহিত্য কমিক্স, অমর চিত্র কথা, ডায়মন্ড কমিক্সের চাচা চৌধুরী,বিল্লু প্রভৃতি মজার চরিত্রের সঙ্গে অগ্নিপুত্র-অভয়, ডায়নামাইট প্রভৃতি অ্যাকশনধর্মী কমিক্স। এছাড়া টিনটিন,টারজান,অরণ্যদেব, ম্যানড্রেক, রিপ কার্বি তো ছিলই। অর্থাৎ দেশী বিদেশী কমিক্সে ভর্তি।
এই প্রসঙ্গে আমার নিজের ছোটবেলার সম্বন্ধে বলি। আমি ডায়মন্ড কমিক্স পরে বড় হয়েছি। তখন চাচা চৌধুরীর রাকা সিরিজ বেশ জনপ্রিয়তা .পেয়েছিলো। স্কুলে অফ-পিরিয়ড হলে আমরা অনেক সময় শুধু কমিক্স পড়ে কাটিয়ে দিতাম। কোনো এক বন্ধু তার বাড়ি থেকে কমিক্স নিয়ে আসতো, আর আমরা সবাই পালা করে পড়তাম।  একদিন  এক বন্ধু ইন্দ্রজাল কমিক্স নিয়ে এসেছিলো, তার দেখাদেখি আমরা সবাই ইন্দ্রজাল পড়তে আরম্ভ করি, বিশেষত ফ্যান্টম। আমার ডাক নাম "রাকা" বলে বন্ধুরা খুব ক্ষ্যাপাত। আবার রোগা বলে আমার দিদি আমাকে বলতো "কেল্টুদা". আমার বাড়ির সবাই বাটুল, নন্টে-ফন্টে পরে হেসে কুপোকাত। বাড়িতে ছোটবেলায় আনন্দমেলা রাখা হত আর তার সব কমিক্সই আমি পড়তাম। পরবর্তীকালে নানা রকম দেশি-বিদেশী কমিক্সের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি এবং এখনও হচ্ছি।
 ১৯৯০-১৯৯৫ সাল অবধিও বাংলায় কমিক্সের মোটামুটি ভালোই জনপ্রিয়তা ছিল। কিন্তু ৯০ সালের শেষদিক থেকে কমিক্সের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। ইন্দ্রজাল বন্ধ হয়ে গেছে। ডায়মন্ড কমিক্সের গল্পগুলি একঘেয়ে হয়ে গেছে। বলতে গেলে নারায়ন দেবনাথের হাঁদা-ভোঁদা/বাটুল আর টিনটিন ছাড়া কিছুই রইলো না সেই সময়ের। ৯৫/৯৬ নাগাদ অভিজিৎ চ্যাটার্জীর করা শঙ্কু/ফেলুদা কমিক্স ভালোই লাগতো। কিন্তু তাও প্রায় বন্ধ হওয়ার জোগাড়।

এখনকার(২০০০ এর পরবর্তী) কোনো বাচ্চা বা কিশোর কমিক্স সম্বন্ধে খুব একটা আগ্রহী নয় বললেই চলে। অনেকেই নাম শোনেনি ফ্যান্টম বা ম্যানড্রেক এর, বাঙালি চরিত্র দূরের কথা। কেউ বা শুধু বাটুল/হাঁদা-ভোঁদার সঙ্গে পরিচিত,কেউ তাও নয়। এর কারণ কি? আমি মনে করি প্রধানত তিনটি:
১. কিছু কমিক্স শুধু সেই যুগের উপযোগী, যে যুগে কমিক্সটি বানানো হয়েছিল। যেমন ফ্যান্টম এর কিছু ফ্যান্টাসী বা রূপকথার মতন কমিক্স, যা সে যুগের বাচ্চারাই পড়ত। অমর চিত্র কথাও তাই।
২. আমাদের ছোটবেলায় স্মার্টফোন বা মোবাইল ছিল না। এখনকার বাচ্চারা গেম খেলায় বেশি আসক্ত।
৩.  আধুনিক যুগপযোগী কমিক্স বা চিত্র-নাট্যের অভাব।

আমি কোনো কমিক্স বিশারদ নই। অনেকেই হয়তো আমার সঙ্গে সহমত হবেন না, তবে এগুলি আমার একান্ত ধারণা। সম্প্রতি লালমাটি,দেব সাহিত্য কুটির, দীপ প্রকাশন, বিশেষত বুক-ফার্ম, মিনিকমিক্স, জিরো কমিক্স বর্তমানে বাংলায় কমিক্সের আর এক স্বর্নযুগ  আনার চেষ্টা করছে। বাংলায় এখনও কমিক্স-প্রেমী মানুষ আছেন অনেকেই, যারা  আমাদের পাশে না থাকলে ব্লগ বা কমিক্সের বই কোনোটাই চলতো না, কিন্তু এসংখ্যা সীমাবদ্ধ।

দর্শকবন্ধুদের একটি প্রশ্ন করতে চাই.. আপনাদের কি মনে হয়.. কি করতে পারলে আবার বাংলায় কমিক্সের স্বর্নযুগ ফিরে আসবে? কি করলে বাচ্চারা আবার বাংলা কমিক্স পড়বে?

আপাতত আমার একান্ত একটি পরামর্শ: আপনি যে কমিক্স পড়ছেন, সেটি আপনার ছেলেমেয়েকেও পড়ান এবং তাকে বলুন তার স্কুল এর বন্ধুদের সেটি দেখাতে।  এভাবে কমিক্সের অন্তত কিছু বেশি পাঠক হবে এই আশা রাখি।

আজকে আমার বন্ধুদের জন্য রইলো দুই অনূদিত কমিক্স, একটি বেরোতো শুকতারাতে ধারাবাহিক ভাবে।


পড়ুন স্টার ট্রেক (কার্তিক ১৩৯২- ভাদ্র ১৩৯৪)
আর  অন্যটি  বেরোতো আনন্দবাজার পত্রিকায়। 

আজকের চমক, ১৯৭৫ সালের একটি রিপ কার্বি। সংগ্রাহক দেবাশীষ চক্রবর্তীকে যে কি বলে ধন্যবাদ জানাবো,তার ভাষা নেই। উনি ছোটবেলায় স্ট্রিপ কেটে রেখেছিলেন, তাই আজ এই অমূল্য জিনিস সবার সঙ্গে ভাগ করতে পারছি..
পড়ুন ধূর্ত ম্যাংলার(স্ট্রিপ নং ১০২ manglers big heist)

এবার রোভার্সের রয়  দিতে পারলাম না বলে দুঃখিত। পরের পোস্টে আরও একটি চমক থাকবে।

Tuesday, August 15, 2017

"THE WAIT" IS OVER; HAPPY INDEPENDENCE DAY 2017

Yes guys, finally after 2 years, "THE WAIT" IS OVER.  I am back at BLOGGING AGAIN!

For those who came late.. I started blogging more than 8 years ago. In all these years, I have tried to post regularly, which I never could. May be I could not post due to some technical problem or other issues, the max period of post gaping was 1 year.. But, took me 2 years this time to post again..

There are many reasons for this long time inactivity, and I am sorry to disappoint all the visitors.. But its for them only, for which I come back again & again. প্রত্যেকবার আপনাদের ভালোবাসার জন্যই আমি বারেবারে ফিরে আসি। Recently, the facebook page of this blog has reached more than 1700 followers.. Thanks a lot for the support..পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। সকল দর্শককে জানাই স্বাধীনতা দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা।

অনেকেই জানেন আমি এখন বুক-ফার্ম সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। বুক-ফার্ম চেষ্টা করছে যাতে বাংলা কমিক্স আমাদের ছোটবেলায় যে পরিমাণে পাওয়া যেত, সেই পরিমাণে আবার যেন পাওয়া যায়। দূর্লভ কমিক্স, যেগুলি শুধুমাত্র এককালীন পত্র-পত্রিকাতেই রয়ে গেছে, সেগুলিকে একত্র করে সহজলভ্য বানানো ছাড়াও প্রত্যেক শিল্পীকে যথাযথ সম্মান  দেওয়ার চেষ্টা করছে বুক-ফার্ম। সম্প্রতি, বুক-ফার্ম থেকে প্রকাশিত হয়েছে ১২টি বাংলা কমিক্সের বই।




তাই এখন থেকে,

(১) যে বাংলা মৌলিক কমিক্সগুলি বুক-ফার্ম চেষ্টা করা সত্ত্বেও কোনো না কোনো কারণে বই আকারে প্রকাশ করতে পারছে না, সেগুলি আপাতত এই ব্লগে দেওয়া হবে।
(২) রোভার্সের রয়ের মতন অন্যান্য বিদেশী স্ট্রিপও এই ব্লগে সম্পূর্ণ দেওয়ার চেষ্টা করবো।

আজ প্রথমেই বলবো ১৯৮৭-৮৮'র রোভার্সের রয়ের কথা:

রোভার্স দ্বিতীয় ডিভিসনে নেমে আসে। রয় এবং তার সাথীরা আপ্রাণ ভালো খেলে, চেষ্টা করে আবার প্রথম ডিভিসনে ফিরে আসার। দলে প্রবেশ করে তরুণ প্রতিভা কেনি লোগান। অপরদিকে, ভিক গাথরি তার বিখ্যাত মেজাজের জন্য সাসপেন্ডেড হয়।  আবার এরই মাঝে রয়কে নিয়ে টিভি সিরিজ করতে চায় এক সংস্থা, সেখানে রয়ের জায়গায় অভিনয় করবেন এলটন ব্লেক।  তাকে ফুটবল শেখাতে গিয়ে রয়ের অবস্থা কাহিল!


অপরদিকে, কেনির বাবাও রেগে আগুন। রয় নাকি তাঁর ছেলেকে জোর করে দলে ঢুকিয়েছে!


এতেই শেষ নয়। রয়ের "সবচেয়ে বড় ভক্ত" ট্রেভর ব্রিনসডেন এর জ্বালায় সবাই অস্থির, এমনকি রয় নিজেও। শেষকালে তিতিবিরক্ত হয়ে রয় নিজেই তাকে স্টেডিয়াম থেকে বার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।


রয়ের শত্রুর সংখ্যা এভাবেই বেড়ে চলেছিল। এমনকি রয়কে নিষ্ঠুরভাবে গুলি করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।  এই সময়েই রোভার্সের রয় ছিল জনপ্রিয়তার শিখরে।



কি পরিণতি হল রয়ের? রয় কি আবার খেলতে পারবে ফুটবল? সেই আততায়ীই বা কে, যে রয়কে মারার চেষ্টা করেছিল?
জমজমাট এই পর্বের রোভার্সের রয়ের জন্য পরের পোস্টের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

তার আগে পড়ুন রোভার্সের রয় ১৯৮৭

০১.০৪.১৯৮৭'র পরের ছবি


আজকের মৌলিক বাংলা কমিক্স: অভিশপ্ত থিবী(কিশোর ভারতী, ১৯৭০-১৯৭১). শিল্পী- শৈল চক্রবর্তী 


"থিবী" বলতে এখানে একটি মমির কথা বলা হয়েছে। মমিটি প্রতি রাতে ঘুরে বেড়াত তার হারানো প্রেমিকাকে ফিরে পাওয়ার জন্য। তিনজন কিশোর-কিশোরী তাকে কাকতালীয় ভাবে সাহায্য করে। তারপর মমিটি মুক্তিলাভ করে। কমিক্সটি মৌলিক হলেও এতে বিদেশী ছায়া আছে, তা বলাই বাহুল্য। বর্তমানে কমিক্সটি পাওয়া যাচ্ছে লালমাটির শৈল চক্রবর্তী সমগ্রে। আমি এখানে কমিক্সটির মূল সংস্করণ দিলাম, কিশোর ভারতী'র পাতা থেকে। তবে প্রয়োজনে photo editing software এর সাহায্য নিতে হয়েছে, কারণ তখন কিশোর ভারতী'র পাতা ছিল অত্যধিক নিম্নমানের।

পড়ুন অভিশপ্ত থিবী

দর্শকদের জানিয়ে রাখি আরও একটি নতুন কমিক্সের ব্লগ খুলতে চলেছে(ক্রমশ: প্রকাশ্য)।  এছাড়া নতুন কমিক্সের বই এবং কমিক্স ও অলংকরণ সংক্রান্ত গবেষণার বই নিয়ে বুক ফার্মের একটি ব্লগ আত্মপ্রকাশ করছে আজই।

আরও কমিক্স নিয়ে আবার ফিরে আসবো, আজকের মতন বিদায়।

**বিঃ দ্রঃ দর্শকদের অনুরোধ করছি, প্রত্যেকটি রোভার্সের রয়ের পোস্ট পুনরায় দেখার জন্য,কারণ প্রত্যেকটি রোভার্সের রয় update করা হয়েছে। প্রত্যেক পোস্টে কিছু নতুন তথ্য ও ছবি পাবেন, তাই চোখ রাখতে ভুলবেন না।